রবিবার, জুলাই ১৪, ২০২৪
spot_img

রাবিতে গানের আসরে সাবেক শিক্ষার্থীর বাধা

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের গানের আসরে ফরহাদ নামে সাবেক এক শিক্ষার্থীর বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িতয়ে পড়ে সাবেক এই শিক্ষার্থী। পরে প্রক্টর দফতরে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করা শর্তে’ মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় তিনি।

অভিযুক্ত রুহুল কুদ্দুস মীর ফরহাদ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা।

অন্যদিকে গানের আসরে থাকা শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা’র সদস্য। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা দলের কয়েকজন সদস্য গান গাচ্ছিলেন। কিছুটা দূরে ফরহাদ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকসহ কয়েকজন একসাথে বসে গল্প করছিলেন। একপর্যায়ে, ফরহাদ ঘটনাস্থলে এসে গানের আসরে থাকা শিক্ষার্থীদের গান গাইতে নিষেধ করেন। পূর্বের জায়গায় ফিরে যান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গান বন্ধ না করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন ফরহাদ। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও উত্তেজিত হয়ে যায়। এসময় পদার্থ বিভাগের শিক্ষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান মিমাংসা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়টি অবগত করেন। কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পুরনজিত মহলদার উপস্থিত হন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। এর মাঝেই শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান লাবন উপস্থিত হন এবং সাবেক ওই শিক্ষার্থীকে ‘শিবির’ আক্ষা দিয়ে মারতে উদ্যত হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়।

এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে এসে অভিযুক্তকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে যান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবসহ নেতাকর্মীরা এবং ক্যাম্পাস বাউলিয়ানার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। সবার সামনে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী ক্ষমা চান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ না করার শর্তে মুচলেকা দিলে সে সাবেক শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা দলের সদস্য হৃদয় বলেন, পরিবহনে অনেক মানুষ ছিল, সবাই আমাদের গান উপভোগ করছিল। আমরা আমাদের মতো গান পরিবেশন করছিলাম। তিনি এসে আমাদের গান গাইতে নিষেধ করলেন। আমরা বন্ধ না করলে তিনি আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি আমাদের সংস্কৃতি চর্চায় বাধা দিতে পারেননা। তাই আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, অভিযুক্ত ওই সাবেক শিক্ষার্থী তার কাজে অনুতপ্ত হয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। সে ভবিষ্যতে আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না।

মাফুজুর রহমান ইমন/এস আই আর

- Advertisement -spot_img

রাজনীতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আবেদন করতে ব্যানারে ক্লিক করুন...spot_img

সর্বশেষ সব খবর