রাজপথজুড়ে মানুষের ঢল, স্লোগানে মুখর চারপাশ, হাতে দলীয় পতাকা আর ব্যানার। সামনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান, আর তাঁর পেছনে দীর্ঘ মিছিল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। দৃশ্যটি যেন জার্মান লোককথার সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে এখানে বাঁশির সুর নয়, নেতৃত্বের আহ্বানেই যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে নেতাকর্মীদের পদযাত্রা।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর রাজপথে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি রাজপথে পায়ে হেঁটে মিছিলে অংশ নেন তিনি।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে যুক্ত হতে থাকে একের পর এক মিছিল। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি রাজপথে নিজেদের সঙ্গে হাঁটতে দেখে তাঁদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।
নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যায়। পুরো পথজুড়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় বিশাল এক জনসমাগমে।
সব মিলিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই কর্মসূচি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক রাজনৈতিক আয়োজন। আর তারেক রহমানকে সামনে রেখে হাজারো মানুষের এই সম্মিলিত পদযাত্রা যেন নতুন করে সামনে নিয়ে আসে সেই উপমা—তারেক রহমান যেন বাংলার হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, আর তাঁর পেছনে রাজপথে এগিয়ে চলেছে হাজারো নেতাকর্মীর মিছিল।
এমএ/জবা
