দলের দুর্দিনে ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়নের এক প্রতীকী গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান চন্দন।
সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে ‘রহমত আলী’ নামের একটি প্রতীকী চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে দীর্ঘদিন দলের জন্য নির্যাতন সহ্য করা এক কর্মীর জীবনের করুণ বাস্তবতা।
গল্পে দেখা যায়, টানা ১৫ বছর ধরে দলের জন্য নিরলস কাজ করা রহমত আলী—যিনি বিরোধী হামলা, মামলা এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—আজ দলের এক নেতার ক্ষমতায় আসার পরও অবহেলিত। যে নেতার জন্য তিনি নিজের জমি বিক্রি করে সহায়তা করেছিলেন, সেই নেতার বাড়ির দরজায় গিয়ে তাকে অপমানিত হতে হয় নতুন কর্মীদের কাছে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতায় আসার পর সেই নেতার চারপাশে ভিড় জমায় নতুন মুখ ও অর্থশালী ব্যক্তিরা, আর পুরোনো ত্যাগী কর্মীরা থেকে যান বাইরে। এমনকি নেতার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েও রহমত আলী তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হন।
গল্পের এক পর্যায়ে রহমত আলী বলেন, “আমরা আসলে মশাল—অন্ধকার দূর করার জন্য আমাদের জ্বালানো হয়। আলো ছড়িয়ে পড়লে মানুষ মশালের কথা ভুলে যায়।
”এই বক্তব্যের মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারকারীদের গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় এবং ক্ষমতার রাজনীতিতে তাদের স্থান দখল করে নেয় নতুন সুবিধাভোগীরা।
পোস্টটির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, “রাজপথের লড়াই ছিল আদর্শের, কিন্তু ক্ষমতার লড়াই নিছক বাণিজ্যের।”সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন।
এমএ



